ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

চিলমারী রানীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ও মজুদকৃত বালু জব্দ।

অভিযানে- এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট,চিলমারী।

বদরুদ্দোজা বুলু কুড়িগ্রাম চিলমারী :
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা রানীগঞ্জ ইউনিয়ন, ফকিরের হাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনের কবলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বালু খেকোদের দৌরাত্ম্যের , কালো থাবা ও নদের ভাঙ্গন রক্ষায় –
গতকাল মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ রানীগঞ্জ ইউনিয়নে টি বাঁধ সংলগ্ন কালিকুড়ায় টি বাঁধ থেকে জকুরীটারী পর্যন্ত মোট ৯টি বালুর পয়েন্ট ও ফকিরের হাট ২ টি পয়েন্ট মোট ১১ টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদকৃত বালু ( আনুমানিক ৯ লাখ টাকা) জব্দ করেন এবং জব্দকৃত মালামাল রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আসলাম ও স্থানীয় ব্যক্তি মোঃ মুকুল মন্ডলের জিম্মায় রাখা হয় এবং লাল পতাকা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ অনুযায়ী।
অভিযান পরিচালনা করেন চিলমারী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।
জানা গেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবসায়ীরা দৈনিক দিনে-রাতে ৬/৭ লাখ টাকার বালু পাচার করছে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে।
বালু পাচারে দিনের বেলায় চলে ছয় চাকার গাড়ী, রাতভর চলে ডাম্পার। ফলে রাস্তা ঘাটের বেহাল দশা। এলাকাবাসী ডাম্পারের ও বাল্কহেড প্রচন্ড শব্দে রাতের ঘুম হারাম এবং দিনের বেলায় বেপরোয়া ছয় চাকার গাড়ি চলাচলে সাধারণ মানুষ ও স্কুলগামী বাচ্চাদের ছোট বড় দূর্ঘটনায় পড়তে হয়।
ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসন (ইউএনও) ও নদের তীরবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের সজাগ দৃষ্টি বিশেষকরে হুমকির মুখে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: কালির কুড়া এলাকায় টি-বাঁধ ও বাঁধের উত্তর পাশের জকুরীটারী ভাঙন এতটাই তীব্র যে, ব্রহ্মপুত্র ডানতীর রক্ষা বাঁধ এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীগর্ভে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম। এছাড়া স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং কবরস্থান যেকোনো সময় নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকাগুলো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
রানীগঞ্জের ফকিরের হাট থেকে পুটিমারী পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ।
উল্লেখ্য বালু খেকোরা মার্চ /২৬ মাসে ফকিরের হাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য টেকসই রাস্তা তৈরির কাজ করছে , ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য বসানো আরসিসি ব্লগ তুলে নিয়ে গিয়ে।
কালির কুরা ও ফকিরের হাট সংযোগ কালির কুরা সংলগ্ন অঞ্চলগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের সরাসরি ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে রানীগঞ্জ ও রমনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে ।
ক্ষয়ক্ষতি গত কয়েক বছরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নে কয়েক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শুধুমাত্র চর বড়ভিটা ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কয়েক শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতে নদী ভাঙন তীব্রতর হয়েছে।
অতি সম্প্রতি (মে ২০২৬), স্থানীয় সংসদ সদস্য কুড়িগ্রাম-৪ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ (Geo-bag) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ।
নদের ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ (Geo-bag) একটা সাময়িক পদক্ষেপ। বন্যায় পানি বেড়ে গেলে পানির স্রোতে ভেসে নিয়ে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি নদের ভাঙ্গন রোধে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভঙ্গুর টি বাঁধের একপাশে সরকারের অর্থ ব্যায়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা অন্যপাশে ড্রেজার ও বাল্ক হেড পাইপের মাধ্যমে নদের তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলমান।
ব্রহ্মপুত্র নদের বালু অত্যন্ত মূল্যবান, চাই সঠিক ব্যবস্থাপনা। এর মাধ্যমে বালু উত্তোলনে বাড়বে সরকারী রাজস্ব ও বাড়বে কর্মসংস্থান।
চিলমারী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জব্দকৃত মালামাল উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বালু বিক্রি করা হবে অথবা যদি কোন সরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট ,কালভার্ট নির্মাণে কাজে লাগে তাহলে ফ্রি দেওয়া হবে।

পরিশেষে , নদের ভাঙ্গন রক্ষায় স্থানীয় ও এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের জীবন জীবিকা অর্জনের জন্য কয়েক শত লোক জড়িত এ কাজ করে সংসার চালায়। এ পেশায় ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছেন বাল্কহেড, ডাম্পার ও ছয় চাকার গাড়িতে , তাই সুষ্ঠ ব্যাবস্থাপনা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই সরকারের রাজস্ব আদায় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি উপর জোর দেয়া।
বদরুদ্দোজা বুলু
চিলমারী কুড়িগ্রাম
০১৭১৫৩০৮১৪১

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিলমারীতে কবর খোদকদের মাঝে নগদ অর্থ ও মাংস বিতরণ ।

চিলমারী রানীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন ও মজুদকৃত বালু জব্দ।

আপডেট সময় ০৩:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

অভিযানে- এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট,চিলমারী।

বদরুদ্দোজা বুলু কুড়িগ্রাম চিলমারী :
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা রানীগঞ্জ ইউনিয়ন, ফকিরের হাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙনের কবলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বালু খেকোদের দৌরাত্ম্যের , কালো থাবা ও নদের ভাঙ্গন রক্ষায় –
গতকাল মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ রানীগঞ্জ ইউনিয়নে টি বাঁধ সংলগ্ন কালিকুড়ায় টি বাঁধ থেকে জকুরীটারী পর্যন্ত মোট ৯টি বালুর পয়েন্ট ও ফকিরের হাট ২ টি পয়েন্ট মোট ১১ টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদকৃত বালু ( আনুমানিক ৯ লাখ টাকা) জব্দ করেন এবং জব্দকৃত মালামাল রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আসলাম ও স্থানীয় ব্যক্তি মোঃ মুকুল মন্ডলের জিম্মায় রাখা হয় এবং লাল পতাকা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ অনুযায়ী।
অভিযান পরিচালনা করেন চিলমারী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।
জানা গেছে, অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবসায়ীরা দৈনিক দিনে-রাতে ৬/৭ লাখ টাকার বালু পাচার করছে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে।
বালু পাচারে দিনের বেলায় চলে ছয় চাকার গাড়ী, রাতভর চলে ডাম্পার। ফলে রাস্তা ঘাটের বেহাল দশা। এলাকাবাসী ডাম্পারের ও বাল্কহেড প্রচন্ড শব্দে রাতের ঘুম হারাম এবং দিনের বেলায় বেপরোয়া ছয় চাকার গাড়ি চলাচলে সাধারণ মানুষ ও স্কুলগামী বাচ্চাদের ছোট বড় দূর্ঘটনায় পড়তে হয়।
ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন ও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসন (ইউএনও) ও নদের তীরবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের সজাগ দৃষ্টি বিশেষকরে হুমকির মুখে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: কালির কুড়া এলাকায় টি-বাঁধ ও বাঁধের উত্তর পাশের জকুরীটারী ভাঙন এতটাই তীব্র যে, ব্রহ্মপুত্র ডানতীর রক্ষা বাঁধ এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীগর্ভে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম। এছাড়া স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্লিনিক, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং কবরস্থান যেকোনো সময় নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকাগুলো মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
রানীগঞ্জের ফকিরের হাট থেকে পুটিমারী পর্যন্ত প্রায় ২.৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ।
উল্লেখ্য বালু খেকোরা মার্চ /২৬ মাসে ফকিরের হাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য টেকসই রাস্তা তৈরির কাজ করছে , ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য বসানো আরসিসি ব্লগ তুলে নিয়ে গিয়ে।
কালির কুরা ও ফকিরের হাট সংযোগ কালির কুরা সংলগ্ন অঞ্চলগুলো ব্রহ্মপুত্র নদের সরাসরি ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে রানীগঞ্জ ও রমনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে ।
ক্ষয়ক্ষতি গত কয়েক বছরে রানীগঞ্জ ইউনিয়নে কয়েক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। শুধুমাত্র চর বড়ভিটা ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কয়েক শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতে নদী ভাঙন তীব্রতর হয়েছে।
অতি সম্প্রতি (মে ২০২৬), স্থানীয় সংসদ সদস্য কুড়িগ্রাম-৪ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ (Geo-bag) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ।
নদের ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ (Geo-bag) একটা সাময়িক পদক্ষেপ। বন্যায় পানি বেড়ে গেলে পানির স্রোতে ভেসে নিয়ে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি নদের ভাঙ্গন রোধে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভঙ্গুর টি বাঁধের একপাশে সরকারের অর্থ ব্যায়ে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা অন্যপাশে ড্রেজার ও বাল্ক হেড পাইপের মাধ্যমে নদের তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলমান।
ব্রহ্মপুত্র নদের বালু অত্যন্ত মূল্যবান, চাই সঠিক ব্যবস্থাপনা। এর মাধ্যমে বালু উত্তোলনে বাড়বে সরকারী রাজস্ব ও বাড়বে কর্মসংস্থান।
চিলমারী উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জব্দকৃত মালামাল উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বালু বিক্রি করা হবে অথবা যদি কোন সরকারি স্থাপনা, রাস্তাঘাট ,কালভার্ট নির্মাণে কাজে লাগে তাহলে ফ্রি দেওয়া হবে।

পরিশেষে , নদের ভাঙ্গন রক্ষায় স্থানীয় ও এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের জীবন জীবিকা অর্জনের জন্য কয়েক শত লোক জড়িত এ কাজ করে সংসার চালায়। এ পেশায় ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছেন বাল্কহেড, ডাম্পার ও ছয় চাকার গাড়িতে , তাই সুষ্ঠ ব্যাবস্থাপনা ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই সরকারের রাজস্ব আদায় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি উপর জোর দেয়া।
বদরুদ্দোজা বুলু
চিলমারী কুড়িগ্রাম
০১৭১৫৩০৮১৪১