কুড়িগ্রাম শহরতলীর গড়ের পাড় বাজার এলাকায় ওহী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একটি পরিবহন গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হলেও অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। গত ১৩ মে বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় গাড়িটিতে থাকা ৬ জন শিক্ষার্থীর কেউ গুরুতর আহত হয়নি বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ঘটনার দিন কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় সড়ক পিচ্ছিল ছিল। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পরিবহন গাড়িটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবও দেখা যায়।
এ বিষয়ে ওহী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, রাস্তার মধ্যে দুটি অটোরিকশা বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা কয়েকজন কিশোরকে রক্ষা করতে গিয়ে চালক গাড়ি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে বৃষ্টির কারণে রাস্তা পিচ্ছিল থাকা এবং রাস্তার পাশের ছোট খাদ ও অসমতল অবস্থার কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, গাড়িতে থাকা কোনো শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সবাই পরিবারের কাছে ফিরে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের পরিবহন চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই এবং ভাইভার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মিনহাজ বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
দুর্ঘটনার পর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিশ্রামের জন্য পরিবারের কাছে রাখা হয়। এ বিষয়ে ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান চৌধুরী রাজের অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার শাহিন চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। তবে আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। চালক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেই হয়তো আরও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার পরপরই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে।
এদিকে কয়েকজন অভিভাবক জানান, দুর্ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটিতে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের সন্তানও ছিল বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস জানায়, স্থানীয় লোকজন তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাইবিহীন তথ্য ও গুজব প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 


























