কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদীসংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে শুরু হওয়া ভাঙনে অনেক পরিবার রাতারাতি ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ বাঁধের ওপর, খোলা মাঠে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম (৪০) বলেন,
“এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, জমি—কিছুই আর নেই। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না।”
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, নদীভাঙনের কারণে শুধু বসতভিটাই নয়, কৃষিজমিও হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একইভাবে নদীভাঙন দেখা দিলেও এখনো স্থায়ী কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না।
এদিকে নদীভাঙনকবলিত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন, ত্রাণ সহায়তা এবং স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক পরিবার একই পরিস্থিতির শিকার হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এখনই কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ না নিলে উলিপুরের নদীভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

এম.সোলায়মান মাহমুদ 


























