নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামের রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।
জানা যায়, ২০২৩ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় আরসিআইপি প্রকল্পের অধীনে সড়কটির সংস্কার কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রায় ১৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিপরীতে প্রায় ১৬ শতাংশ কম দরে ১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় কাজটি গ্রহণ করেন রংপুরের ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কাজ শুরু হলেও কিছু অংশে খনন শেষে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকে।
এতে করে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আগে থেকেই পিচ ও খোয়া উঠে যাওয়ায় সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তার ওপর খনন কাজের পর তা আর মেরামত না করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি রাজারহাট উপজেলা সদর থেকে উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট বাজার হয়ে উলিপুর-কুড়িগ্রাম সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করেন।
সড়কটির দুরবস্থার কারণে অন্তত ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় অটোচালক মোস্তফা মিয়া জানান, “রাস্তা খুঁড়ে রেখে কাজ বন্ধ করায় এখন চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।”
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, “স্কুল-কলেজে যেতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।”
অন্যদিকে আতাউর রহমান আতা অভিযোগ করে বলেন, “জরুরি সময়ে ফায়ার সার্ভিস বা অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত এই রাস্তায় আসতে পারে না।”
ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা দাবি করেন, কিছু সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল, তবে এখন পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রদীপ কুমার জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ 


























