ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

হাতিয়া, বুড়াবুড়ি ও সাহেব আলগা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল সাহেব আলগা ইউনিয়নের সহ হাতিয়া ও বুড়া বুড়ি ইউনিয়ন দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের (Vulnerable Group Feeding) চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এই সরকারি চাল আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সর্বসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুস্থ, নদীভাঙন কবলিত ও কর্মহীন পরিবারের সহায়তার জন্য সরকার সাহেব আলগা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ না করে, হাকিয়া ও মুরাবুরি এলাকার কিছু অসাধু চক্র রাতের অন্ধকারে এই চাল কালোবাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:​কার্ডধারীদের বঞ্চিতকরণ: বহু প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তারা চাল পাচ্ছেন না।ওজনে কম দেওয়া: যাদের চাল দেওয়া হচ্ছে, তাদেরও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।​রাতের আঁধারে পাচার: স্থানীয়দের দাবি, বিতরণের আগেই চালের একটি বড় অংশ ট্রলার ও নৌকায় করে অন্যত্র পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।

​প্রশাসনের ভূমিকা ও জনমনে অসন্তোষ

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাল চুরির এই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতার কারণে চাল চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

হাকিয়া এলাকার এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকার আমাদের জন্য চাল পাঠায়। কিন্তু মেম্বার-চেয়ারম্যানদের লোকজন সেই চাল আমাদের না দিয়ে বাজারে বিক্রি করে দেয়। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।”

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​এ বিষয়ে সাহেব আলগা ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা চাল বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে এবং একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা ছড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী গরিব মানুষের রাষ্ট্রীয় অধিকার। চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে যারা কালোবাজারে চাল বিক্রি করছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে হাকিয়া ও মুরাবুরি এলাকার চাল চুরির সত্যতা উদঘাটন করেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনেন

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিলমারীতে কবর খোদকদের মাঝে নগদ অর্থ ও মাংস বিতরণ ।

হাতিয়া, বুড়াবুড়ি ও সাহেব আলগা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ।

আপডেট সময় ১০:০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল সাহেব আলগা ইউনিয়নের সহ হাতিয়া ও বুড়া বুড়ি ইউনিয়ন দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের (Vulnerable Group Feeding) চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে এই সরকারি চাল আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। তবে এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সর্বসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুস্থ, নদীভাঙন কবলিত ও কর্মহীন পরিবারের সহায়তার জন্য সরকার সাহেব আলগা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ না করে, হাকিয়া ও মুরাবুরি এলাকার কিছু অসাধু চক্র রাতের অন্ধকারে এই চাল কালোবাজারে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:​কার্ডধারীদের বঞ্চিতকরণ: বহু প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় পরিবারের নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তারা চাল পাচ্ছেন না।ওজনে কম দেওয়া: যাদের চাল দেওয়া হচ্ছে, তাদেরও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।​রাতের আঁধারে পাচার: স্থানীয়দের দাবি, বিতরণের আগেই চালের একটি বড় অংশ ট্রলার ও নৌকায় করে অন্যত্র পাচার করে দেওয়া হচ্ছে।

​প্রশাসনের ভূমিকা ও জনমনে অসন্তোষ

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, চাল চুরির এই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতার কারণে চাল চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

হাকিয়া এলাকার এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, সরকার আমাদের জন্য চাল পাঠায়। কিন্তু মেম্বার-চেয়ারম্যানদের লোকজন সেই চাল আমাদের না দিয়ে বাজারে বিক্রি করে দেয়। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।”

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​এ বিষয়ে সাহেব আলগা ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা চাল বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে এবং একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মিথ্যা ছড়াচ্ছে।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী গরিব মানুষের রাষ্ট্রীয় অধিকার। চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে যারা কালোবাজারে চাল বিক্রি করছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠন করে হাকিয়া ও মুরাবুরি এলাকার চাল চুরির সত্যতা উদঘাটন করেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনেন