ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি সহ ঘুষ-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ কুড়িগ্রাম টিটিসি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মো. রেজাউল করিম খন্দকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল টিটিসিতে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মাত্র ছয় মাসের মাথায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে পদাবনতি দিয়ে ঠাকুরগাঁও টিটিসিতে বদলি করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আবারও কুড়িগ্রাম টিটিসিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগাঁওয়ে বদলির আগে আটজন কর্মচারীর কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন অধ্যক্ষ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৫ সালের ২৮ মে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, শূন্যপদে নতুন নিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহকারীর কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকার জামানতের চেক ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও ৭-৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ১০টি ট্রেডে প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে নগদ ও চেক মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ওই ঠিকাদার কুড়িগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দিয়েছেন।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট এক ঠিকাদার জানান, প্রকৃত সরবরাহকারী না হয়েও কিছু প্রতিষ্ঠানকে সর্বনিম্ন দরদাতা দেখানো হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ঠিকাদার না জেনেই তার নামে কাজ দেখানো হয়েছে।

এদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের বিনা কারণে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মো. রেজাউল করিম খন্দকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অফিস নিয়ম মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ করছে।”

তবে একের পর এক অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে জবাবদিহিতা নিয়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিলমারীতে কবর খোদকদের মাঝে নগদ অর্থ ও মাংস বিতরণ ।

বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি সহ ঘুষ-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ কুড়িগ্রাম টিটিসি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

আপডেট সময় ১০:২৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মো. রেজাউল করিম খন্দকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল টিটিসিতে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মাত্র ছয় মাসের মাথায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে পদাবনতি দিয়ে ঠাকুরগাঁও টিটিসিতে বদলি করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আবারও কুড়িগ্রাম টিটিসিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগাঁওয়ে বদলির আগে আটজন কর্মচারীর কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন অধ্যক্ষ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৫ সালের ২৮ মে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুতরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া, শূন্যপদে নতুন নিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহকারীর কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকার জামানতের চেক ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও ৭-৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ১০টি ট্রেডে প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে নগদ ও চেক মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ওই ঠিকাদার কুড়িগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দিয়েছেন।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট এক ঠিকাদার জানান, প্রকৃত সরবরাহকারী না হয়েও কিছু প্রতিষ্ঠানকে সর্বনিম্ন দরদাতা দেখানো হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ঠিকাদার না জেনেই তার নামে কাজ দেখানো হয়েছে।

এদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের বিনা কারণে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সৈয়দ মো. রেজাউল করিম খন্দকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অফিস নিয়ম মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ করছে।”

তবে একের পর এক অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে জবাবদিহিতা নিয়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।