ভোরের আলো ফোটার আগেই কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরে শুরু হয় ব্যস্ততা। দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এসে জমা হয় একটি ছোট্ট ঘরে। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে খবরের কাগজ—সরকারি অফিস, আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে।
কিন্তু সেই বহু বছরের পরিচিত কেন্দ্রটি এখন ভাঙনের মুখে। জেলা পরিষদ মার্কেট উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে বাইপাস রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনায় পত্রিকা হোকার সমিতির ব্যবহৃত ঘরটি অপসারণের নির্দেশনা আসায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হোকাররা।
হোকারদের অভিযোগ, আশেপাশে আরও কয়েকটি স্থাপনা থাকলেও শুধুমাত্র তাদের ব্যবহৃত ঘরটিকেই সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তারা নিজেদের অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার মনে করছেন।
সমিতির সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘরটিই কুড়িগ্রামে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রধান বিতরণকেন্দ্র। প্রতিদিন এখান থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে পত্রিকা বাছাই, সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হয়। ঘরটি না থাকলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
হোকার সমিতির সদস্য ওসাম আলী বলেন,
“এই কাজের ওপরই আমাদের পরিবারের জীবন চলে। হঠাৎ ঘর ভেঙে দিলে আমরা কোথায় যাবো? কোথায় পত্রিকা রাখবো? কীভাবে মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেবো? বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা হলে পত্রিকা সরবরাহ চালানো সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ বলেই হয়তো আমাদের কথাগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় তরুণ সাংবাদিক আশির্বাদ রহমান। তিনি বলেন,
“সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। আর সেই সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন হোকাররা। তাদের কাজ ব্যাহত হলে তথ্যপ্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় জেলা পরিষদের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আগামী রবিবার হোকার সমিতি ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামের সংবাদপত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ছোট্ট ঘর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়—এটি জেলার প্রতিদিনের সংবাদ প্রবাহের প্রাণকেন্দ্র। সেই কেন্দ্র টিকবে, নাকি হারিয়ে যাবে উন্নয়নের চাপে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

স্টাফ রিপোর্টার 


























