ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

শেষ বয়সে সন্তানের নির্যাতন: জমি না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে অবরুদ্ধ।

১৮৪

শেষ বয়সে এসে নিজের সন্তানদের হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক অসহায় বাবা। জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার রামদাস ধনিরাম খেওয়ারপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায়

চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী আজাহারুল ইসলাম (৬৩) জানান, তার দুই ছেলে আল ইমরান (৩৮) ও আবু হুরায়রা (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে তার নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু জীবনের শেষ সম্বল ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তাতে অংশ নেয়নি।

 

অভিযোগে তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে আল ইমরান ও আবু হুরায়রা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বাধা দিলে তারা ইট ও লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তার ডান হাত ধরে মোচড় দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একই সময় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে বড় ছেলে রেজওয়ানুল ইসলাম এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে রেজওয়ানুল ইসলামও মারধরের শিকার হন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আজাহারুল ইসলামকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, “আমার ছোট দুই ভাই জোর করে বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নিতে চায়। বাবা রাজি না হওয়ায় তারা এ ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে।

এলাকাবাসী বারবার আপস-মীমাংসার জন্য ডাকলেও তারা সাড়া দেয় না।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক জানান, ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরের দুর্গাপুর বাজারে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন অভিযান, অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস।

শেষ বয়সে সন্তানের নির্যাতন: জমি না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে অবরুদ্ধ।

আপডেট সময় ০১:২৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
১৮৪

শেষ বয়সে এসে নিজের সন্তানদের হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক অসহায় বাবা। জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার রামদাস ধনিরাম খেওয়ারপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায়

চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী আজাহারুল ইসলাম (৬৩) জানান, তার দুই ছেলে আল ইমরান (৩৮) ও আবু হুরায়রা (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে তার নামে থাকা জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু জীবনের শেষ সম্বল ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তাতে অংশ নেয়নি।

 

অভিযোগে তিনি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে আল ইমরান ও আবু হুরায়রা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বাধা দিলে তারা ইট ও লাঠি নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তার ডান হাত ধরে মোচড় দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একই সময় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে বড় ছেলে রেজওয়ানুল ইসলাম এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন।

বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে রেজওয়ানুল ইসলামও মারধরের শিকার হন। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আজাহারুল ইসলামকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, “আমার ছোট দুই ভাই জোর করে বাবার কাছ থেকে জমি লিখে নিতে চায়। বাবা রাজি না হওয়ায় তারা এ ধরনের নির্যাতন চালিয়েছে।

এলাকাবাসী বারবার আপস-মীমাংসার জন্য ডাকলেও তারা সাড়া দেয় না।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক জানান, ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।