ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

চিলমারী উপজেলায় টিয়ার ও কাবিখার চালে হরিলুট, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প।

৩১

উপজেলার হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত টিআর (টাকা দিয়ে খাদ্য) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের চালে ব্যাপক অনিয়ম ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সিংহভাগই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখে অর্থ ও বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

​কাগজে-কলমে কাজ, বাস্তবে শূন্য

​অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং পুকুর পাড় বাঁধানোর জন্য বেশ কয়েকটি টিআর ও কাবিখা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরজমিনে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান রূপ দেখা যায়নি। অনেক পুরনো কাজকেই নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে অর্থ ছাড় করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়:

​রাস্তা মেরামত প্রকল্প: যে গ্রামীণ রাস্তায় মাটির কাজ করার কথা ছিল, সেখানে ১ ঝুড়ি মাটিও ফেলা হয়নি।

​ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: নামমাত্র বরাদ্দ দেখিয়ে প্রকল্পের বড় একটি অংশ স্থানীয় সিআইসি (Project Implementation Officer) ও পরিচালনা কমিটির যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

​ভুয়া শ্রমিক তালিকা: কাগজে-কলমে শতাধিক শ্রমিকের উপস্থিতির হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো শ্রমিকই কাজ করেননি।

​ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, “সরকার প্রতি বছর আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ চাল ও অর্থ পাঠায়, কিন্তু চেয়ারম্যান-মেম্বার ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটে সেই টাকা চলে যায়। আমরা বছরের পর বছর ভাঙা রাস্তায় যাতায়াত করছি, অথচ খাতায় লেখা হয় রাস্তা মেরামত সম্পন্ন!”

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “সবগুলো প্রকল্পের কাজ তদারকি করা হয়েছে। কোথাও কোনো কাজের ঘাটতি থাকলে বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে কোনো প্রকার দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিলমারীতে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন।

চিলমারী উপজেলায় টিয়ার ও কাবিখার চালে হরিলুট, ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প।

আপডেট সময় ০৫:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৩১

উপজেলার হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত টিআর (টাকা দিয়ে খাদ্য) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের চালে ব্যাপক অনিয়ম ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সিংহভাগই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রেখে অর্থ ও বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

​কাগজে-কলমে কাজ, বাস্তবে শূন্য

​অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং পুকুর পাড় বাঁধানোর জন্য বেশ কয়েকটি টিআর ও কাবিখা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরজমিনে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান রূপ দেখা যায়নি। অনেক পুরনো কাজকেই নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে অর্থ ছাড় করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়:

​রাস্তা মেরামত প্রকল্প: যে গ্রামীণ রাস্তায় মাটির কাজ করার কথা ছিল, সেখানে ১ ঝুড়ি মাটিও ফেলা হয়নি।

​ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: নামমাত্র বরাদ্দ দেখিয়ে প্রকল্পের বড় একটি অংশ স্থানীয় সিআইসি (Project Implementation Officer) ও পরিচালনা কমিটির যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

​ভুয়া শ্রমিক তালিকা: কাগজে-কলমে শতাধিক শ্রমিকের উপস্থিতির হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো শ্রমিকই কাজ করেননি।

​ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

​এলাকাবাসীর অভিযোগ, “সরকার প্রতি বছর আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ চাল ও অর্থ পাঠায়, কিন্তু চেয়ারম্যান-মেম্বার ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেটে সেই টাকা চলে যায়। আমরা বছরের পর বছর ভাঙা রাস্তায় যাতায়াত করছি, অথচ খাতায় লেখা হয় রাস্তা মেরামত সম্পন্ন!”

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “সবগুলো প্রকল্পের কাজ তদারকি করা হয়েছে। কোথাও কোনো কাজের ঘাটতি থাকলে বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে কোনো প্রকার দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। লিখিত অভিযোগ পেলে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে