ঢাকা , শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

চুরির অপবাদে নির্মম নির্যাতন অপমান সইতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা!

১৫

আশুলিয়ায় মোবাইল ও টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার অপমান সহ্য করতে না পেরে আল-আামিন (২৬) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।

গত ৯ জুন দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া শরীফ মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে নিহত আল আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার গালা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের মো. আলমগীর সরকারের বড় ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন আল-আমিনের বিরুদ্ধে মোবাইল ও টাকা চুরির অপবাদ আনা হয়। এরপর তাকে স্থানীয় প্রভাবশালী বাড়িওয়ালা কামাল, বিপ্লব, তানভীর ও সুমনসহ ১০-১২ জন মিলে জোরপূর্বক মাঝহারুলের গ্যারেজে ধরে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় মারধরের একপর্যায়ে আল-আমিনের পুরো শরীর নীলা ফোলা জখম হয়ে যায়। নির্যাতনকারীরা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, ঘটনাটি ধামাচাপা ও মীমাংসা করার নামে আল-আমিনের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করে।

মিথ্যা অপবাদ ও নির্মম শারীরিক নির্যাতনের পর এই বিপুল অঙ্কের জরিমানার অপমান সইতে পারেননি আল-আমিন। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৯ জুন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নিজ বাসার বাথরুমের টিনের চালের সাথে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁসি নেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করেন। প্রথমে মাথায় পানি ঢেলে এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহতের বাবা-মায়ের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, এর আগে আল-আমিনের ছোট ভাই পানিতে ডুবে মারা যায়। আল-আমিনের এই অকাল মৃত্যুর পর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আর কোনো ছেলে সন্তান অবশিষ্ট রইলো না।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গত রাতে আনুমানিক ২টার দিকে আল-আমিনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে জামগড়া শরীফ মার্কেট এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে একটি নিরীহ ছেলেকে পিটিয়ে আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তবে পর্দার আড়ালে ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের প্রশ্ন এভাবে প্রভাবশালীদের অত্যাচার আর কতদিন চলবে।

​এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্টার্টআপ, সাইন্স প্রোজেক্ট এন্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেচিং প্রোগ্রামে ১ম স্থানে চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদরাসা।

চুরির অপবাদে নির্মম নির্যাতন অপমান সইতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা!

আপডেট সময় ০২:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
১৫

আশুলিয়ায় মোবাইল ও টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন এবং মোটা অঙ্কের জরিমানার অপমান সহ্য করতে না পেরে আল-আামিন (২৬) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।

গত ৯ জুন দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া শরীফ মার্কেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে নিহত আল আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার গালা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের মো. আলমগীর সরকারের বড় ছেলে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুন আল-আমিনের বিরুদ্ধে মোবাইল ও টাকা চুরির অপবাদ আনা হয়। এরপর তাকে স্থানীয় প্রভাবশালী বাড়িওয়ালা কামাল, বিপ্লব, তানভীর ও সুমনসহ ১০-১২ জন মিলে জোরপূর্বক মাঝহারুলের গ্যারেজে ধরে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় মারধরের একপর্যায়ে আল-আমিনের পুরো শরীর নীলা ফোলা জখম হয়ে যায়। নির্যাতনকারীরা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, ঘটনাটি ধামাচাপা ও মীমাংসা করার নামে আল-আমিনের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করে।

মিথ্যা অপবাদ ও নির্মম শারীরিক নির্যাতনের পর এই বিপুল অঙ্কের জরিমানার অপমান সইতে পারেননি আল-আমিন। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৯ জুন দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নিজ বাসার বাথরুমের টিনের চালের সাথে গামছা পেঁচিয়ে ফাঁসি নেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করেন। প্রথমে মাথায় পানি ঢেলে এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নিহতের বাবা-মায়ের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, এর আগে আল-আমিনের ছোট ভাই পানিতে ডুবে মারা যায়। আল-আমিনের এই অকাল মৃত্যুর পর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আর কোনো ছেলে সন্তান অবশিষ্ট রইলো না।

খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গত রাতে আনুমানিক ২টার দিকে আল-আমিনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে জামগড়া শরীফ মার্কেট এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে একটি নিরীহ ছেলেকে পিটিয়ে আত্মহত্যার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তবে পর্দার আড়ালে ক্ষোভ ফুঁসে উঠছে সাধারণ মানুষের মাঝে তাদের প্রশ্ন এভাবে প্রভাবশালীদের অত্যাচার আর কতদিন চলবে।

​এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।