ঢাকা , রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

উলিপুরে বড় ভাইয়ের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ।

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের উলিপুরক উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে। মৃত বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করে তার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে একই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় নথিপত্র, পারিবারিক সাক্ষ্য এবং এলাকাবাসীর বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ভাকারু শেখের চার ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। বড় ছেলে খসরু শেখ বহু আগে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সরকারি এসএ রেকর্ড অনুযায়ী, খসরু শেখের নামে ২৪৮৬ নম্বর দাগে ২০ শতক এবং ২৪৯৩ নম্বর দাগে ১১ শতক—মোট ৩১ শতক জমি নথিভুক্ত রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে ছোট ছেলে আলিম উদ্দিন তার বড় ভাই খসরু শেখের অস্তিত্ব অস্বীকার করে ওই জমির মালিকানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। শুধু তাই নয়, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন একই ব্যক্তি—এমন দাবিও তোলা হচ্ছে বর্তমানে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, খসরু শেখের সম্পত্তির মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ শতক জমি আলিম উদ্দিন জীবদ্দশায় তার দুই ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। অবশিষ্ট জমি এখনো তার উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে।

১৯৯৪ সালের আরএস রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলিম উদ্দিন তার নিজ নামে ১০ শতক জমি রেকর্ড করান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাকি জমিও তিনি প্রভাব খাটিয়ে দখলে রাখেন।

খসরু শেখের ছোট ভাই ছলিম উদ্দিন এবং তিন বোন—ছালমা, রাহেনা ও কাছমা—স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খসরু শেখের পৃথক জন্মনিবন্ধন রয়েছে, যেখানে তার জন্ম ১৯৩৯ সালে এবং মৃত্যু ১৯৫২ সালে উল্লেখ আছে।

স্থানীয় সাহেবের কুটি মসজিদের মোয়াজ্জেম তাইজ উদ্দিনসহ একাধিক প্রবীণ বাসিন্দাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা—আব্দুল খালেক, আব্দুল মালেক, আব্দুল মজিদ ও হাফিজুর রহমান—অন্য উত্তরাধিকারীদের অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং তারা নিজেদের খসরু শেখের ওয়ারিশ দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমির ন্যায্য অংশ দাবি করতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।

ছলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “ভাই জীবিত থাকতেই জমি ভাগ হয়েছিল। এখন তার ছেলেরা আমাকে মারধর করে জমিতে যেতে বাধা দেয়।”

তিন বোনের অভিযোগ, “আমরা তাদের ফুফু হলেও তারা তা স্বীকার করে না। উল্টো আমাদের অপমান করে। নিজের বাবার জমিতে যাওয়ার সাহস পাই না।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মৃত ব্যক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভূমি রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন এবং স্থানীয় সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী উত্তরাধিকার বণ্টনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চিলমারীতে কবর খোদকদের মাঝে নগদ অর্থ ও মাংস বিতরণ ।

উলিপুরে বড় ভাইয়ের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ।

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরক উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সাহেবের কুটি গ্রামে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে। মৃত বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করে তার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে একই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় নথিপত্র, পারিবারিক সাক্ষ্য এবং এলাকাবাসীর বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ভাকারু শেখের চার ছেলে ও তিন মেয়ে ছিলেন। বড় ছেলে খসরু শেখ বহু আগে নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সরকারি এসএ রেকর্ড অনুযায়ী, খসরু শেখের নামে ২৪৮৬ নম্বর দাগে ২০ শতক এবং ২৪৯৩ নম্বর দাগে ১১ শতক—মোট ৩১ শতক জমি নথিভুক্ত রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে ছোট ছেলে আলিম উদ্দিন তার বড় ভাই খসরু শেখের অস্তিত্ব অস্বীকার করে ওই জমির মালিকানা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। শুধু তাই নয়, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন একই ব্যক্তি—এমন দাবিও তোলা হচ্ছে বর্তমানে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, খসরু শেখের সম্পত্তির মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ শতক জমি আলিম উদ্দিন জীবদ্দশায় তার দুই ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেন। অবশিষ্ট জমি এখনো তার উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে।

১৯৯৪ সালের আরএস রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলিম উদ্দিন তার নিজ নামে ১০ শতক জমি রেকর্ড করান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাকি জমিও তিনি প্রভাব খাটিয়ে দখলে রাখেন।

খসরু শেখের ছোট ভাই ছলিম উদ্দিন এবং তিন বোন—ছালমা, রাহেনা ও কাছমা—স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, খসরু শেখ ও আলিম উদ্দিন সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, খসরু শেখের পৃথক জন্মনিবন্ধন রয়েছে, যেখানে তার জন্ম ১৯৩৯ সালে এবং মৃত্যু ১৯৫২ সালে উল্লেখ আছে।

স্থানীয় সাহেবের কুটি মসজিদের মোয়াজ্জেম তাইজ উদ্দিনসহ একাধিক প্রবীণ বাসিন্দাও একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা—আব্দুল খালেক, আব্দুল মালেক, আব্দুল মজিদ ও হাফিজুর রহমান—অন্য উত্তরাধিকারীদের অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং তারা নিজেদের খসরু শেখের ওয়ারিশ দাবি করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমির ন্যায্য অংশ দাবি করতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় এবং মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখানো হয়।

ছলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “ভাই জীবিত থাকতেই জমি ভাগ হয়েছিল। এখন তার ছেলেরা আমাকে মারধর করে জমিতে যেতে বাধা দেয়।”

তিন বোনের অভিযোগ, “আমরা তাদের ফুফু হলেও তারা তা স্বীকার করে না। উল্টো আমাদের অপমান করে। নিজের বাবার জমিতে যাওয়ার সাহস পাই না।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মৃত ব্যক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভূমি রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন এবং স্থানীয় সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী উত্তরাধিকার বণ্টনের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।