কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় অবস্থিত বেসরকারি ‘উলিপুর আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল’-এ চিকিৎসকদের চরম অবহেলা, অদক্ষতা এবং জোরপূর্বক সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় জরায়ু ছিঁড়ে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত প্রসূতির নাম নূরানী আক্তার। ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আজ (২১ মে) সকাল ৭টায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসব বেদনা উঠলে নূরানী আক্তারকে উলিপুর শহরের ‘উলিপুর আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল’-এ ভর্তি করা হয়।
জোরপূর্বক অস্ত্রোপচার: রোগীর স্বাভাবিক প্রসবের (Normal Delivery) সম্ভাবনা বা শারীরিক অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ান অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেয়।চিকিৎসাগত অদক্ষতা: অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার করার সময় চিকিৎসকদের অসতর্কতা ও অদক্ষতার কারণে নূরানী আক্তারের জরায়ু মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে যায়।তথ্য গোপন ও অবহেলা: জরায়ু ছিঁড়ে যাওয়ার পর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (Internal Bleeding) নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।বিলম্বিত স্থানান্তর (Delayed Referral): অবস্থা বেগতিক দেখে মধ্যরাতে (আনুমানিক রাত ১টা) রোগীর স্বজনদের ডেকে জোরপূর্বক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

স্টাফ রিপোর্টার 






















