ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই বোনের লাশ দাফন হল মায়ের কবরের পাশে

৬৩

কুড়িগ্রামের রৌমারী‌ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল নিহত হন রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চৎলাকান্দা গ্রামের মো: শহিদুল প্রভাষকের স্ত্রী লিপি খাতুন (২৬), ছেলে রিশাদ (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। আজ রবিবার(১৮ অক্টোবর) সকালে চৎলাকান্দা গ্রামের মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে ৮টার সময় তাদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজা নামাজের দূরদূরান্ত থেকে আত্বীয়স্বজন,
শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গ্রামের লোকজন শরিক হন। জানাজা নামাজ শেষে চৎলাকান্দা কবর স্থানে মায়ের কবরের দুইপাশে দুইজন সন্তানকে তাদের দাফন করা হয়।
উল্লেখ যে, গতকাল শ‌নিবার(১৭অ‌ক্টোবর) দুপু‌র তিনটার দি‌কে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সা‌য়েদাবাদ বাজা‌র রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কে এক‌টি মাল‌বোঝাই ট্রাক ব‌্যাটা‌রি চা‌লিত অ‌টো‌রিকশা‌টি‌কে ধাক্কা দি‌লে ৫জনের মৃত‌্যু হয়।
নিহতরা হলেন,লিপি খাতুন (২৬), ছেলে রিশাদ (১২) ও মেয়ে তুবা (৭),নিহত লিপি খাতুনের বড় বোন শরীফা বেগম(৪২), অজ্ঞাত ১জন। নিহত শরীফা বেগম (৪২) এবং মেয়ে গুরুতর আহত বৃষ্টিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এবিষয়ে ২নং শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.নজরুল ইসলাম বলেছেন,আজকে আমরা যে জানাজায় অংশগ্রহণ করলাম এটা রৌমারীর ইতিহাসে বিরল যে একই সাথে একই পরিবারের তিনজন মানুষকে হারানো এবং আমরা যারা জানাজায় অংশগ্রহণ করছি একসাথে তিনজনের জানাজায় অংশগ্রহণ করার অভিজ্ঞতা আমাদের কারোই নেই। আল্লাহপাক এর মধ্যে কি ভালো রেখেছে জানিনা। তো এই শোক কাটানো খুব কষ্টকর। আমি সবাইকে আহ্বান করব ছোট ভাই শহিদুলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তাকে সময় দেওয়ার জন্য। সে যেন এই শোককে কাটিয়ে উঠতে পারে। একই সাথে আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব এই গাড়িগুলো যাদের ভুলের জন্য আজকে পরিবারের এত আপন লোককে হারাতে হলো এর জন্য এর শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসে।শহিদুল ইসলাম রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। কলেজটির অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির বলেছেন, আমার কলিগ প্রভাষক জনাব শহিদুল ইসলামের স্ত্রী পুত্র কন্যা গতকাল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার সঙ্গে আরো দুইজন নিহত হয়েছেন তার বড় শালিকা এবং অজ্ঞাত একজন। সংঘর্ষের ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। আমার কলিগের পরিবারে কেউ থাকলো না। আমি তাদের বিদ্রেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
শহিদুল ইসলামের বড় ভাই রৌমারী মহিলা কলেজের প্রভাষক সারদুল ইসলাম ভাষ্য, আমার পরিবার,গ্রামবাসী আশেপাশে গ্রামের সবাই শোকাহত। আমি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করে। পুরো গ্রামে একটা শোকের মাতম চলছে। শুধু পুরো গ্রাম না পুরো উপজেলায় বলতে হবে। যেহেতু একটা পরিবারের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। এইজন্য পুরো উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই বক্তব্য যারা গাড়ি চালান তারা যেন একটু সতর্কভাবে চালান। এই অসতর্কতার কারণে এই এক্সিডেন্ট গুলো হয়। আপনারা সতর্ক থাকলে অনেক প্রাণ বেঁচে যাবে। আমি দেশবাসীর কাছেও দোয়া চাচ্ছি সবার জন্য। আল্লাহ যেন এই শোক সওয়ার তৌফিক দেন, আমিন।
চৎলাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেছেন,গতকাল যে আকস্মিক দুর্ঘটনা এটা শুধু আমাদের চৎলাকান্দা গ্রামকে শোকাবহ করেছে। আসলে আমরা যারা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করি যাত্রী হিসেবে বা যারা ড্রাইভার রয়েছেন বিভিন্ন গাড়ির তারা যদি একটু সচেতন হয় তাহলে হয়তোবা অনেকটা এরকম দুর্ঘটনাকে আমরা এরিয়ে যেতে পারি। এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যু প্রথম দেখলাম এবং একসাথে তিনজনের জানাজা নামাজ আমি প্রথম পড়লাম।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাহেবের আলগা ইউনিয়নে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ভেস্তে যাচ্ছে ভূমি সেবা

রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাই বোনের লাশ দাফন হল মায়ের কবরের পাশে

আপডেট সময় ০১:০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৬৩

কুড়িগ্রামের রৌমারী‌ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল নিহত হন রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চৎলাকান্দা গ্রামের মো: শহিদুল প্রভাষকের স্ত্রী লিপি খাতুন (২৬), ছেলে রিশাদ (১২) ও মেয়ে তুবা (৭)। আজ রবিবার(১৮ অক্টোবর) সকালে চৎলাকান্দা গ্রামের মসজিদ ও মাদ্রাসা মাঠে ৮টার সময় তাদের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত জানাজা নামাজের দূরদূরান্ত থেকে আত্বীয়স্বজন,
শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গ্রামের লোকজন শরিক হন। জানাজা নামাজ শেষে চৎলাকান্দা কবর স্থানে মায়ের কবরের দুইপাশে দুইজন সন্তানকে তাদের দাফন করা হয়।
উল্লেখ যে, গতকাল শ‌নিবার(১৭অ‌ক্টোবর) দুপু‌র তিনটার দি‌কে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সা‌য়েদাবাদ বাজা‌র রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কে এক‌টি মাল‌বোঝাই ট্রাক ব‌্যাটা‌রি চা‌লিত অ‌টো‌রিকশা‌টি‌কে ধাক্কা দি‌লে ৫জনের মৃত‌্যু হয়।
নিহতরা হলেন,লিপি খাতুন (২৬), ছেলে রিশাদ (১২) ও মেয়ে তুবা (৭),নিহত লিপি খাতুনের বড় বোন শরীফা বেগম(৪২), অজ্ঞাত ১জন। নিহত শরীফা বেগম (৪২) এবং মেয়ে গুরুতর আহত বৃষ্টিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এবিষয়ে ২নং শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.নজরুল ইসলাম বলেছেন,আজকে আমরা যে জানাজায় অংশগ্রহণ করলাম এটা রৌমারীর ইতিহাসে বিরল যে একই সাথে একই পরিবারের তিনজন মানুষকে হারানো এবং আমরা যারা জানাজায় অংশগ্রহণ করছি একসাথে তিনজনের জানাজায় অংশগ্রহণ করার অভিজ্ঞতা আমাদের কারোই নেই। আল্লাহপাক এর মধ্যে কি ভালো রেখেছে জানিনা। তো এই শোক কাটানো খুব কষ্টকর। আমি সবাইকে আহ্বান করব ছোট ভাই শহিদুলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তাকে সময় দেওয়ার জন্য। সে যেন এই শোককে কাটিয়ে উঠতে পারে। একই সাথে আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব এই গাড়িগুলো যাদের ভুলের জন্য আজকে পরিবারের এত আপন লোককে হারাতে হলো এর জন্য এর শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসে।শহিদুল ইসলাম রৌমারী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। কলেজটির অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির বলেছেন, আমার কলিগ প্রভাষক জনাব শহিদুল ইসলামের স্ত্রী পুত্র কন্যা গতকাল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার সঙ্গে আরো দুইজন নিহত হয়েছেন তার বড় শালিকা এবং অজ্ঞাত একজন। সংঘর্ষের ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যায়। আমার কলিগের পরিবারে কেউ থাকলো না। আমি তাদের বিদ্রেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
শহিদুল ইসলামের বড় ভাই রৌমারী মহিলা কলেজের প্রভাষক সারদুল ইসলাম ভাষ্য, আমার পরিবার,গ্রামবাসী আশেপাশে গ্রামের সবাই শোকাহত। আমি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি আল্লাহ যেন তাদের বেহেশত নসিব করে। পুরো গ্রামে একটা শোকের মাতম চলছে। শুধু পুরো গ্রাম না পুরো উপজেলায় বলতে হবে। যেহেতু একটা পরিবারের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। এইজন্য পুরো উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। দেশবাসীর কাছে আমার একটাই বক্তব্য যারা গাড়ি চালান তারা যেন একটু সতর্কভাবে চালান। এই অসতর্কতার কারণে এই এক্সিডেন্ট গুলো হয়। আপনারা সতর্ক থাকলে অনেক প্রাণ বেঁচে যাবে। আমি দেশবাসীর কাছেও দোয়া চাচ্ছি সবার জন্য। আল্লাহ যেন এই শোক সওয়ার তৌফিক দেন, আমিন।
চৎলাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেছেন,গতকাল যে আকস্মিক দুর্ঘটনা এটা শুধু আমাদের চৎলাকান্দা গ্রামকে শোকাবহ করেছে। আসলে আমরা যারা রাস্তাঘাটে চলাফেরা করি যাত্রী হিসেবে বা যারা ড্রাইভার রয়েছেন বিভিন্ন গাড়ির তারা যদি একটু সচেতন হয় তাহলে হয়তোবা অনেকটা এরকম দুর্ঘটনাকে আমরা এরিয়ে যেতে পারি। এক পরিবারের তিনজনের মৃত্যু প্রথম দেখলাম এবং একসাথে তিনজনের জানাজা নামাজ আমি প্রথম পড়লাম।