কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভায় উন্নয়নকাজ সম্পন্ন না করেই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বরাদ্দের এক কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছয়টি প্যাকেজের আওতায় নেওয়া ১৪টি প্রকল্পের বেশ কয়েকটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। কোথাও সড়ক অসম্পূর্ণ, কোথাও ড্রেন নির্মাণের পর বন্ধ রয়েছে পরবর্তী কাজ। এমনকি প্রকল্প তালিকায় থাকা দুটি ড্রেনের অস্তিত্বও সরেজমিনে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির বরাদ্দে উলিপুর পৌরসভার উন্নয়নের জন্য এক কোটি টাকার ১৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ এসব কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পৌর ভবন মেরামত, আসবাবপত্র সরবরাহ, সিসি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং পুকুরপাড়ে ইটের প্যালাসাইডিং দেয়াল নির্মাণ ছিল প্রকল্পগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও তালিকাভুক্ত অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কোথাও রাস্তার মাঝখানে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু দুই পাশের রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। কোনো কোনো সড়কে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
চোকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা আফছারী আলী বলেন, রাস্তার মাঝখানে ড্রেন নির্মাণের পর দুই পাশে গর্ত রয়ে গেছে। পুরো রাস্তা নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ আর এগোয়নি। আগে রিকশা-ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচল করতে পারলেও এখন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
একই এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ড্রেন নির্মাণের প্রায় ছয় মাস পার হলেও রাস্তার বাকি অংশের কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত সড়কটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার মো. হাসান বলেন, ইটের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কাজ করতে পারেননি। নতুন ইট তৈরি হলে কাজ শুরু করবেন। পৌরসভা বিল দেখিয়ে টাকা তুলে রেখেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পৌরসভার সদ্য বদলি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। ৩০ জুন ২০২৬ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অর্থ ট্রেজারি থেকে পৌরসভার হিসাবে রাখা হয়েছে। কাজ না করেই ব্যয় দেখিয়ে টাকা তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ব্যয় দেখিয়ে টাকা তোলা হয়েছে এবং এখন কাজ করা হবে।
অন্যদিকে, উলিপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ জানান, কাজ সম্পন্ন না করায় ঠিকাদারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ১০ শতাংশ টাকা কেটে নিয়ে কাজ বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ ব্যয় দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের হিসাব এবং কাজের বর্তমান অগ্রগতি যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্টাফ রিপোর্টার। 



















