২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এসব শিক্ষার্থী আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না তাঁদের।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আক্তারুজ্জামান সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে। পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ চালু হলে এসব শিক্ষার্থী শুধু তাঁদের অকৃতকার্য বিষয়গুলোতেই আবার পরীক্ষা দিতে পারবেন। ফলে একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না তাঁদের।
শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলো অথবা ইচ্ছা করলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রায় এক বছর অপেক্ষা করতে হয়।
নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘ অপেক্ষা কমবে। পাশাপাশি শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি ও মানসিক চাপও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।

ঢাকার সংবাদ প্রতিবেদন 









