কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি জবরদখলের চেষ্টা, হামলা, ধান কেটে নেওয়া এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির মালিক মো. মজিবর রহমান (৬৭) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিজের সম্পত্তি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী মজিবর রহমান ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, গত চার-পাঁচ মাস ধরে একই এলাকার পাঁচ ব্যক্তি তাঁর ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর আবাদি জমির সেচের ব্যবস্থা ও মোটরের তার খুলে নিয়ে যান। এ ছাড়া জমিতে খুঁটি পুঁতে দখলের চেষ্টা করেন। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি বলে দাবি করেছেন মজিবর রহমান।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই জমিতে ধান কাটতে গেলে মজিবর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, দা, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় মজিবর রহমানের ছেলে মো. কামরুজ্জামান মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১২৮৯৯।
মজিবর রহমানের অভিযোগ, ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে গত ২৫ অক্টোবর অভিযুক্তরা তাঁর ৩২ শতাংশ জমির কাঁচা ও আধা-পাকা ধান কেটে নিয়ে যান। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে ভুরুঙ্গামারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাটা ধান জব্দ করে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এর পরদিন ২৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা জব্দ করা ধানসহ অবশিষ্ট ধানও নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর চাষ করা আরও প্রায় ১১২ শতাংশ জমির ধান কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মজিবর রহমানের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে তাঁর মালিকানাধীন এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি তা ভোগদখল করে আসছেন। জমির বিবরণ অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পশ্চিম ছাট গোপালপুর মৌজায় আরএস খতিয়ান নম্বর ১২১৪-এর অধীন ৫৫১৮ নম্বর দাগে ১৯ শতাংশ এবং ৫৬৩৯ নম্বর দাগে ১১২ শতাংশসহ মোট ১৩১ শতাংশ জমি রয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় জমি জবরদখল ও অবশিষ্ট ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, জমির দখল ও ফসল রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ভুরুঙ্গামারী থানা-পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

স্টাফ রিপোর্টার। 









