কুড়িগ্রামের সুলতানা সরোবরের স্নিগ্ধ বিকেলে যখন মানুষ অবসরে আড্ডায় মেতে ওঠে, তখন সেখানে কফির কাপ হাতে অবিরাম ব্যস্ত থাকেন সোহেল। তার তৈরি কফির স্বাদে যেমন মুগ্ধতা আছে, তেমনি তার জীবন গল্পের আড়ালে লুকিয়ে আছে অভাব, ঋণ এবং শারীরিক এক কঠিন লড়াইয়ের ইতিহাস। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়ন থেকে আসা এই তরুণ এখন কুড়িগ্রাম শহরে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে টিকে থাকার লড়াই করছেন।
সোহেলের জীবনটা খুব একটা সহজ ছিল না। তিনি শুধু পারিবারিক অভাব আর ঋণের বোঝা টানছেন না, লড়ছেন নিজের শরীরের সাথেও। জানা গেছে, বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে উঠেছেন তিনি; ওপেন হার্ট সার্জারির মতো জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধকল কাটিয়েও তিনি দমে যাননি। পরিবারের দায়িত্ব আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন স্বাবলম্বী হওয়ার পথ।
সোহেলের কাজের রুটিন বেশ কঠোর। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে অবস্থান করেন। এরপর বিরতিহীনভাবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত সুলতানা সরোবর এলাকায় চলে তার কফির দোকান। গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোহেল অত্যন্ত দ্রুত ও যত্নসহকারে কফি তৈরি করতে পারেন। গ্রাহকদের সাথে তার বিনম্র আচরণ আর সাবলীল কথাবার্তা তাকে অল্প সময়েই স্থানীয়দের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।
পরিবার ও বাবা-মাকে ছেড়ে দূরে এসে সোহেল এখন কেবল দুই বেলা ডাল-ভাতের সংস্থানের জন্য লড়াই করছেন। কফি বিক্রির সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাকে মেটাতে হচ্ছে ঋণের কিস্তি। সোহেলের এই অদম্য জেদ ও পরিশ্রম দেখে স্থানীয়রা অনেকেই মুগ্ধ। অনেকের মতে, সোহেলের মতো তরুণ উদ্যোক্তা যারা শারীরিক অসুস্থতা জয় করে সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা পাওয়া উচিত।
নিজের এই সংগ্রাম নিয়ে সোহেল বলেন, “জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার জন্য আমি সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি স্বপ্ন দেখি ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। আমি সবার সহযোগিতা চাই।”
সোহেল তার এই নতুন যাত্রায় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন। তার কর্মজীবন এবং প্রতিদিনের লড়াইয়ের আপডেটগুলো জানতে তার ফেসবুক পেজ ‘Sohel Voice’-এ যুক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি আশা করেন, সবাই তার পেজে ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন এবং তার এই পথচলায় সাহস যোগাবেন।
সমাজের সচেতন নাগরিকরা যদি সুলতানা সরোবরে গিয়ে সোহেলের হাতের কফির স্বাদ নেন বা তাকে সামাজিকভাবে উৎসাহিত করেন, তবে হয়তো তার জীবনের কঠিন এই পথচলা কিছুটা হলেও সহজ হতো। সোহেল শুধু কফি বিক্রি করছেন না, বরং তিনি বিক্রি করছেন তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন। সোহেলের এই সংগ্রামী জীবনে আমাদের সামান্য সহানুভূতি আর সমর্থনই হতে পারে তার এগিয়ে যাওয়ার বড় প্রেরণা।

স্টাফ রিপোটার 



















