ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

ফটিকছড়ির রাজনীতিতে প্রশ্নের মুখে সারোয়ার আলমগীর: তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।

১৪২

ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি নানা আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সারোয়ার আলমগীর। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে আসছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নিজের চলমান আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধানের দিকে মনোযোগ না দিয়ে কেন তিনি বারবার অন্যদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। তৃণমূলের একাংশের মতে, ফটিকছড়ির রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরিতে এসব বক্তব্য কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না।

এদিকে নারায়ণহাট ও বাগানবাজার ইউনিয়নকে ঘিরে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়গুলো নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলা ও সৌজন্যবোধ বজায় রাখা উচিত।

অন্যদিকে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বারবার শুনানির তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করলেও তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তৃণমূলের অনেক কর্মী আরও দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে নতুন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় দলীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে যাদের নাম উঠে আসছে, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ফটিকছড়ির সচেতন রাজনৈতিক মহলের অভিমত, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রত্যাশা, দলীয় ঐক্য এবং এলাকার উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব দায়িত্বশীল আচরণ করবে, দলীয় ঐক্য সুসংহত করবে এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ভিতরবন্দ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে গণসংযোগে মাহমুদুল হাসান মাহমুদ।

ফটিকছড়ির রাজনীতিতে প্রশ্নের মুখে সারোয়ার আলমগীর: তৃণমূলে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।

আপডেট সময় ১০:১৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
১৪২

ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি নানা আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সারোয়ার আলমগীর। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে আসছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নিজের চলমান আইনি ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধানের দিকে মনোযোগ না দিয়ে কেন তিনি বারবার অন্যদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন। তৃণমূলের একাংশের মতে, ফটিকছড়ির রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরিতে এসব বক্তব্য কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না।

এদিকে নারায়ণহাট ও বাগানবাজার ইউনিয়নকে ঘিরে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়গুলো নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিতপূর্ণ ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দলীয় শৃঙ্খলা ও সৌজন্যবোধ বজায় রাখা উচিত।

অন্যদিকে চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বারবার শুনানির তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করলেও তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

তৃণমূলের অনেক কর্মী আরও দাবি করছেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে নতুন কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় দলীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে যাদের নাম উঠে আসছে, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ফটিকছড়ির সচেতন রাজনৈতিক মহলের অভিমত, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রত্যাশা, দলীয় ঐক্য এবং এলাকার উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব দায়িত্বশীল আচরণ করবে, দলীয় ঐক্য সুসংহত করবে এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবে।