আজ বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার সাভার উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক সালেহ আহমেদ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। সেখানে সিসিইউ ইউনিটের ১২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর। তিনি স্ত্রী, মাত্র ৮ বছর বয়সী এক পুত্র, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়ার বয়সেই এতিম হয়ে গেল তার ছোট্ট সন্তান—যা উপস্থিত সবার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করেছে।
সালেহ আহমেদ ছিলেন একজন সৎ, বিনয়ী, নিরহংকারী ও মানবিক মানুষ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলার জন্য তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তার নম্র আচরণ, উদার মানসিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ তাকে সহকর্মী এবং পরিচিতজনদের কাছে বিশেষ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু তার পরিবার নয়, শোকাহত পুরো সাভারের সাংবাদিক সমাজ। একজন সজ্জন, কর্মনিষ্ঠ ও মানবিক সহকর্মীকে হারিয়ে সাভারের গণমাধ্যম অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।
সালেহ আহমেদের মৃত্যুতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সহকর্মী এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু তার সততা, বিনয়, মানবিকতা ও সুন্দর ব্যবহারের স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। সাংবাদিক সালেহ আহমেদও তার কর্ম, চরিত্র ও মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আল্লাহ তাআলা মরহুম সালেহ আহমেদকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সাভার প্রতিনিধি : 




















