চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাচকোল সড়কটারী বাঁধরাস্তা হতে শিমুলতলী বাঁধের কালিরকুড়া পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোতের তোড়ে ধ্বসে যাওয়া স্থান গুলোতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর কাজ শুরু করা হলেও এলাকা বাসির স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে কুড়িগ্রামের জনৈক ঠিকাদারের শ্রমিকগন বাঁধরাস্তায় জমাকৃত বালু তুলে জিওব্যাগে ভর্তি করে সেলাই দিচ্ছেন। তবে অনেকেই জিও ব্যাগের বালুতে মাটি মিশ্রিত থাকারও অভিযোগ করেছেন। ইতোমধ্যে সড়কটারী, শিমুলতলী ও কালিরকুড়া পর্যন্ত ধসে যাওয়া পিচিং এর ব্লক গুলোর স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ মিনি স্লুইস গেটটির ভেঙ্গে যাওয়া দু’পাশের ডানা দুটোতেও জিও ব্যাগ দিয়ে রক্ষা করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে শিমুলতলীবাধ এলাকার জয়নাল আবেদীন, দিলদার আলী, বাবু মিয়া জানান, ৩৬ বছর আগে ভিটে-মাটি হারিয়ে এই বাধরাস্তার স্লোপে তারা আশ্রয় নিয়েছিল, এবারে বাধ ভেঙ্গে গেলে তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে গেলে তারা সর্বশান্ত হয়ে যাবেন। সড়কটারীর মজনু, রঘুনাথ সহ এলাকাবাসীদের দাবী বাধরাস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে বাধ ভেঙ্গে পশ্চিমে মাগুরার বীল, শৈলধুবরীর বীল ও চাচলার বীল, কাচকোল বাজার সহ আশপাশের বিশাল এলাকাভাঙ্গনের ঝুকিতে পড়বে। সে সাথে নদের গতিপথ পরবর্তন হয়ে মানচিত্র থেকে চিলমারী সদর চিরদিনের জন্য নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, নদের পানি প্রবাহের মূলধারাটি এখন সরাসরি বাধরাস্তা ঘেষেই প্রবাহিত হওয়ায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কয়েকটি স্থানে পিচিং এর ব্লক ধ্বসে গেছে। স্রোতের গতিপথ পূর্ব দিকে সরে না গেলে কাচকোল বাজারের ভাটিতে দক্ষিন ওয়ারী সহ পিচিং এর বিভিন্ন স্থানে আরও ধসে পড়ার আশংঙ্খা করেছেন সচেতন মহল। এলাকাবাসীর অভিযোগ , কয়েক বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। কাঁচকোল থেকে ফকিরেরহাট পর্যন্ত ডানতীর রক্ষা বাঁধের অন্তত একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়, যা বর্তমানে ভয়াবহ বিপদের সংকেত প্রদান করছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীতে চলমান থাকবে।

ওবায়দুল হক খাজা 



















