ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

যৌতুকের দাবিতে প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে দ্বিতীয় বিয়ে।

৬০

কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় প্রথম স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় এবং দেনমোহরের বকেয়া পরিশোধ না করেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযোগটি উলিপুর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচপীর মোহাম্মদপুর এলাকার।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর মোহাম্মদপুর এলাকার মো. এরশাদুল হকের দ্বিতীয় ছেলে মো. মিলন মিয়ার সঙ্গে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মো. সাইদুর রহমানের মেয়ে মোছাম্মৎ সালমা আক্তারের বিয়ে হয় ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে অলংকার বাবদ ২ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হলেও বাকি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি।

বিয়ের পর মিলন মিয়া ইলেকট্রিক পার্সেল ব্যবসা করতেন। এ সময় মেয়ের পরিবার তাকে ব্যবসার জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা দিতে না পারায় সালমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় সালমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। এরপর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় মিলন মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে দাবি পরিবারের।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ে তার প্রথম স্ত্রী। তার দেনমোহরের বড় একটি অংশ এখনো বকেয়া রয়েছে। যৌতুকের জন্য মেয়েকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর আবার দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আইনজীবীরা বলছেন, যৌতুক দাবি করা এবং যৌতুকের জন্য নারীকে নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির বিধান রয়েছে। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে এবং প্রথম স্ত্রীর বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হতে পারে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ভিতরবন্দ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে গণসংযোগে মাহমুদুল হাসান মাহমুদ।

যৌতুকের দাবিতে প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, পরে দ্বিতীয় বিয়ে।

আপডেট সময় ১০:৫৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
৬০

কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় প্রথম স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় এবং দেনমোহরের বকেয়া পরিশোধ না করেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযোগটি উলিপুর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচপীর মোহাম্মদপুর এলাকার।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের পাঁচপীর মোহাম্মদপুর এলাকার মো. এরশাদুল হকের দ্বিতীয় ছেলে মো. মিলন মিয়ার সঙ্গে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের মো. সাইদুর রহমানের মেয়ে মোছাম্মৎ সালমা আক্তারের বিয়ে হয় ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে অলংকার বাবদ ২ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হলেও বাকি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি।

বিয়ের পর মিলন মিয়া ইলেকট্রিক পার্সেল ব্যবসা করতেন। এ সময় মেয়ের পরিবার তাকে ব্যবসার জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তা দিতে না পারায় সালমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা এনে না দেওয়ায় সালমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের। এরপর প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় মিলন মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে দাবি পরিবারের।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ে তার প্রথম স্ত্রী। তার দেনমোহরের বড় একটি অংশ এখনো বকেয়া রয়েছে। যৌতুকের জন্য মেয়েকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর আবার দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আইনজীবীরা বলছেন, যৌতুক দাবি করা এবং যৌতুকের জন্য নারীকে নির্যাতন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতির বিধান রয়েছে। অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে এবং প্রথম স্ত্রীর বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য হতে পারে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।