ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকার সংবাদ এ দক্ষ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে......... যোগাযোগঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০ হোয়াটঅ্যাপ ।
নোটিশ :

যেকোনো বিজ্ঞপন দিতে যোগাযোগ করুন, মোঃ লিটন হাসান মিয়া বার্তা সম্পাদক, মোবাইলঃ ০১৪০৫৫৪৯৩২০।

ফটিকছড়িতে বৃদ্ধ পিতাকে মারধর ও ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী।

  • নাজিম উদ্দীন 
  • আপডেট সময় ০৩:১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে
৩৪

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মোস্তফা (বৃদ্ধ) নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর আপন ছেলে মো. মোরশেদ (প্রায় ৩২) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাঁকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার তাঁকে ঘরে আটকে রেখে জুমার নামাজ আদায় করতেও যেতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া পরদিনও তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জানান, এর আগেও তিনি বিষয়টি নিয়ে ফটিকছড়ি থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় তৎকালীন থানার কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ করার কারণেই তাঁর ছেলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাঁকে ফটিকছড়ি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অতীতে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি থানায় না গিয়ে সরাসরি ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম-এর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মোস্তফা সাহেবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে ছেলের বাধার মুখে পড়েন। এরপর থেকে তিনি আর বিয়ে করেননি। বর্তমানে তিনি বাড়ির সামনে একটি ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ভুক্তভোগী আরও জানান, তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার টাকার ওষুধ সেবন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন বলে জানান।

এছাড়া স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত মোরশেদের বিরুদ্ধে অতীতেও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মা জীবিত থাকাকালেও তিনি মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে সন্তানদের মানুষ করলেও বর্তমানে বৃদ্ধ পিতা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস
প্রফেশনাল নিউজ পোর্টাল দিচ্ছে থিম বিক্রয় ডটকম

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরের দুর্গাপুর বাজারে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন অভিযান, অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও ধ্বংস।

ফটিকছড়িতে বৃদ্ধ পিতাকে মারধর ও ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী।

আপডেট সময় ০৩:১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
৩৪

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মোস্তফা (বৃদ্ধ) নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর আপন ছেলে মো. মোরশেদ (প্রায় ৩২) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, বিভিন্ন সময়ে তাঁকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার তাঁকে ঘরে আটকে রেখে জুমার নামাজ আদায় করতেও যেতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া পরদিনও তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী জানান, এর আগেও তিনি বিষয়টি নিয়ে ফটিকছড়ি থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় তৎকালীন থানার কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ করার কারণেই তাঁর ছেলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে তাঁকে ফটিকছড়ি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অতীতে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি থানায় না গিয়ে সরাসরি ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম-এর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে আইনগত প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মোস্তফা সাহেবের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে ছেলের বাধার মুখে পড়েন। এরপর থেকে তিনি আর বিয়ে করেননি। বর্তমানে তিনি বাড়ির সামনে একটি ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

ভুক্তভোগী আরও জানান, তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার টাকার ওষুধ সেবন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে অসহায় দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন বলে জানান।

এছাড়া স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত মোরশেদের বিরুদ্ধে অতীতেও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মা জীবিত থাকাকালেও তিনি মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে সন্তানদের মানুষ করলেও বর্তমানে বৃদ্ধ পিতা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।