লালমনিরহাটে বড়বাড়ি’তে ব্যবসায়িক লেনদেনের জের ধরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের একজন স্থানীয় ডিলারের বিরুদ্ধে কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) জাহাঙ্গীর আলম(২৮) এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক থানায় অভিযোগ উঠেছে। কোনো অনিয়ম বা অপরাধ না করেও ডিলারের চক্রান্তে দায়ের করা “১ লক্ষ” টাকার এই ভুয়া অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে চরম মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত জীবন পার করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাট সদরে প্রাণ কোম্পানির এসআর হিসেবে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি কোম্পানির স্থানীয় ডিলার ‘উজ্জ্বল চন্দ্র রায়’ এর সঙ্গে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ এবং কমিশনের বকেয়া টাকা আদায় নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের কথা-কাটাকাটি হয় এবং তার অঘদ্যভাষায় গালাগালি শিকার হয়ে চাকুরীচুত্ব হয়। সেই সাথে ডিলের প্রতিদিনের হিসাব বুকে কমিশনের টাকার হিসাব ঠিক নাই এবং ডিলারের কিছু অন্যায্য দাবি ও হিসাবে গরমিল মেনে না নেওয়ায় তিনি জাহাঙ্গীরের ওপর ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জেরে ডিলার সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং জাহাঙ্গীরকে পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে লালমনিরহাট থানায় একটি ভুয়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এসআর জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সদস্যরা জানান, “জাহাঙ্গীর কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। ডিলারের নিজস্ব হিসাবের ঘাটতি জাহাঙ্গীরের ঘাড়ে চাপানোর জন্যই এই মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জাহাঙ্গীর একজন সৎ ছেলে হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। ডিলারের এই ধরনের একতরফা অভিযোগের কারণে মাঠপর্যায়ে কর্মরত অন্য সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধিরা (এসআর) চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার ও কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডিলার উজ্জ্বল এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়ার যায়নি এবং লালমনিরহাট সদর থানার কর্মকর্তা (এসআই) ইমরান এর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছি এবং ডিলারের করা অভিযোগে কোনো ধরনের মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হয়রানির কোন সুযোগ দেওয়া হবে না।

মোঃ রেজাউল হক 


























