দুই বছরের অবোধ শিশু কন্যা আয়শার চাঞ্চল্যকর হত্যার গত ০১/০৫/২০২৬ ইং তারিখ স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দিতে কহিনুর-আপেল দম্পত্তি হত্যার দায় স্বীকার করায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক সন্দেহ জনক অপর ৪ জনকে সন্মানের সাথে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরৎ পাঠানোর খবর নিশ্চিত করেছেন চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার। নৃশংস ভাবে খূন হওয়া ২ বছরের শিশু কন্যা আয়শার হত্যা রহস্য উদঘাটন সহ আসামী গ্রেপ্তারের নিয়ে গত ০১/০৫/২০২৬ ইং তারিখ শুক্রবার কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল এর প্রকাশিত প্রেস রিলিজে জানাযায়, আয়শা আক্তার পাশের বাসায় আসামি কহিনুর বেগমের ছেলের সাথে খেলার সময় কলম দিয়ে চোখে আঘাত পায় এবং রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে। এসময় ভিকটিম চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে আসামি কহিনুর বেগম ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে এবং এর ফলে ভিকটিম নিস্তেজ হয়ে মৃত্যু বরণ করলে তাকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখে। পরবর্তীতে রাত হলে ও বিদ্যুৎ চলে অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে রাখে। গ্রেফতারকৃত আসমি কহিনুর বেগম ও রাশেদুল ইসলমাম আপেলকে আজ ১ মে, ২০২৬ ইং তারিখ কুড়িগ্রাম জেলার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামি কহিনূর বেগম দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। গত ৩১/০৪/২০২৬ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার বিকালে আয়শা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশু ইশিতা(৮), মাহি(৬), মিতু মনি (৫), ঈশামনি (৪) ও তাদের অভিভাবক সহ আরো কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অন্যান্যদেরকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সন্দেহভাজন কহিনুর থানায় থাকা অবস্থায় তার স্বামী আপেলকে থানায় ডাকা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্ত্রী কোহিনুর সহ আরেক সন্দেহ ভাজন পরিবারের ফুলমতি, ফুলমতির মেয়ে মোর্শেদা, ফুলমতির ছেলে ফুলমিয়ার স্ত্রী মুন্নীকে থানায় আটক করা হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশ মাচাবান্দায় গিয়ে আপেলের বাড়ি সংলগ্ন সামিউল ইসলাম দুখুকেও তার বাসস্থান থেকে নিয়ে আসেন।

দুই বছরের অবুঝ ও অবোধ শিশুর নৃশংস হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটনে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ ভুমিকা নিয়ে জনমনে আশার সঞ্চার হয়েছে। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবী তুলেছেন। সেই সাথে এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার পুর্নরাবৃত্তি রোধে আয়শা হত্যাকান্ডের তদন্ত অব্যাহত রেখে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জোর দাবী করেছেন সচেতন মহল।