কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘নতুন কুঁড়ি’ সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের মতো সক্রিয় সংগঠনগুলোকে বাদ দিয়ে এই কমিটি গঠন করায় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই কমিটি গঠনের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন উপজেলা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাজদা বেগম। অভিযোগ উঠেছে, মাজদা বেগম ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শের বশবর্তী হয়ে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোকে পরিকল্পিতভাবে কমিটির বাইরে রেখেছেন। এর পরিবর্তে তিনি আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সংগঠক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দিয়ে একটি বিতর্কিত কমিটি গঠন করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দাবি করছেন।
সাংবাদিকদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মূলধারার সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের মতে, মাজদা বেগমের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের কারণেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অফিস সহকারীর বদলি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকগণ অভিযুক্ত অফিস সহকারী মাজদা বেগমের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং বদলির দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, তার উপস্থিতিতে স্বচ্ছ কোনো কার্যক্রম সম্ভব নয়।
এই বিষয়ে সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে সকল পক্ষের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের জোরালো দাবি জানান। অন্যথায়, সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।