কুড়িগ্রাম জেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রযুক্তিনির্ভর পেশাজীবীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার মধ্যেই অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে পরীক্ষার্থীরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। গরমের মধ্যে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে সেচ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। বিদ্যুৎ না থাকায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ফসল নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরাও বিপাকে পড়েছেন। নিয়মিত চার্জ না দিতে পারায় আয় কমে গেছে। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসা, ওয়েল্ডিং ও ফ্রিল্যান্স কাজেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ৮০ মেগাওয়াট। ফলে গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানায়, তাদের আওতায় ৩৩ হাজার গ্রাহকের জন্য ১২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
উলিপুর উপজেলার একাধিক শিক্ষার্থী জানান, “পড়তে বসার পরই বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে—এতে প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছে।”
কৃষকরা বলেন, সময়মতো সেচ না দিতে পারায় ধান ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শামিম পারভেজ বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।
পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
এলাকাবাসী দ্রুত লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।