কুড়িগ্রামের উলিপুরে সড়কের পাশে স্থাপিত একটি প্ল্যান্ট মেশিন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৩ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পাতারীবাড়ি এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নওরোজ আবু বক্কর এন্টারপ্রাইজ একটি প্ল্যান্ট মেশিন স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত করে আসছে। মেশিনটি চালু হলে এর চিমনি দিয়ে নির্গত কালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে মেশিন থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি বাতাসে মিশে পরিবেশ দূষিত করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যান্টটি চালু থাকলে এর আশপাশের এলাকায় ধোঁয়া ও ধুলাবালির বিস্তার ঘটে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী,মোটরসাইকেল চালক ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে সামনের পথ স্পষ্টভাবে দেখতে না পাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চোখে ধুলাবালি প্রবেশ করায় পথচারীদেরও পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যান্টটি এভাবে পরিচালিত হলেও পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজের প্রয়োজনে স্থাপিত প্ল্যান্ট মেশিনের কারণে সাধারণ মানুষ কেন পরিবেশদূষণ ও জনদুর্ভোগের শিকার হবেন? উন্নয়নকাজের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
এলাকাবাসী দ্রুত প্ল্যান্টটির কার্যক্রম পরিদর্শন, পরিবেশদূষণের মাত্রা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।