নানা প্রতিকূল পেরিয় এইচ এসসি জিপিএ-৫,পেয়েছে যমজ ২ বোন
স্টাফ রিপোর্টার,
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। উপজেলার ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কলেজ পর্যায়ে তারাই একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী।
তারা উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জ্বী গ্রামের বাসিন্দা এবং রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী। বাবা মনির হোসেন সরদারের স্থায়ী কোনো কাজ না থাকায় সংসারে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। তবুও মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে নিরলস চেষ্টা করেছেন মা নাসিমা বেগম।
দুই বোনের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ছিল সাফল্যের ধারাবাহিকতা। অষ্টম শ্রেণিতে রহিমা সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। এসএসসিতেও দুজনের ফলাফল ছিল জিপিএ-৫-এর কাছাকাছি। তাদের মেধা ও অধ্যবসায়ের কথা জানিয়েছেন সিংহীমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান।
অর্থাভাবে কখনো প্রাইভেট শিক্ষকের পারিশ্রমিক, কখনো কলেজের ফি জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে শিক্ষকদের সহযোগিতা, উপবৃত্তি এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় পড়াশোনা চালিয়ে যায় তারা।
মা নাসিমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষকেরা বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। সবার সহযোগিতায় আজ তারা ভালো ফল করেছে।
রহিমা ও রাবেয়া জানায়, বাবার কষ্ট কিছুটা লাঘব করা এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই তারা নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। এখন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করাই তাদের স্বপ্ন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. জহুরুল ইসলাম বলেন, দুই বোনের এমন সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ আনন্দিত ও গর্বিত।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন জানান, রাজারহাট উপজেলায় কলেজ শাখায় দুজন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দুজনসহ মোট চারজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। কলেজ শাখায় জিপিএ-৫ পাওয়া দুই শিক্ষার্থীই যমজ বোন।
অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা রহিমা ও রাবেয়ার এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও সহযোগিতা থাকলে দারিদ্র্যও স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।