কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দুধখাওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন যুগপূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা যেন এক আবেগঘন অধ্যায়ের অবসান। বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুল ইসলামকে সংবর্ধনা দিতে শুক্রবার বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি সমাগম হয় ক্ষণিকের জন্য মিলনমেলা পরিণত হয় কান্না আর ভালোবাসার এক অপূর্ব মিলনে।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক, একটি পালসার মোটরসাইকেল ও নানা উপহার। বিদায়ী এই শিক্ষক ৩৬ বছর ৯ মাস ৮ দিন নিরলস দায়িত্ব পালন করেছেন এই প্রতিষ্ঠানে। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বেই রাজারহাট উপজেলায় বিদ্যালয়টি মডেল স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৯৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীরা সাধারণ ও ট্যালেন্ট বৃত্তি অর্জন করে আসছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মন্ডল সাথী বলেন, “ওনার অবসর আমাদের শোকাহত করছে। অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের কান্না থামছে না। উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এই মানুষটিকে ছাড়তে আমরা ভারাক্রান্ত মনে বিদায় জানাচ্ছি—প্রার্থনা করি তিনি সুস্থ, দীর্ঘায়ু ও আনন্দময় জীবন পাক।”
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক নিজেও আবেগ আপ্লুত হয়ে স্মৃতিচারণ করেন ১৯৮৮ সালে আরডিআরএসের ‘শিক্ষা নিলয়’ হিসেবে যাত্রা শুরু, ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি তাঁর যোগদান, ১৯৯৫ সালে রেজিস্ট্রেশন এবং ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি সরকারিকরণের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন জমিদাতা রহমতুল্লাহকে, যার অবদানে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে; তাঁর জন্য দোয়া চান সবার কাছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক আহম্মদ আলী মন্ডল। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হৃদয় কৃঞ্চ বর্মন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ও সাবেক ছাত্র ডা. মো. আব্দুস ছালাম। সঞ্চালনায় ছিলেন আবুল কালাম আজাদ ও ফারুক হোসেন। প্রাক্তন ছাত্র সেকেন্দার আলী লিমন বলেন, “আমরা স্যারকে নিজ বাবার মতো পেয়েছি তাঁর স্নেহ, ত্যাগ ও পরিশ্রম আজও আমাদের পথ দেখায়