কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কামিল মাদ্রাসা মাঠে জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শহীদ রাজীব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ে মাঠজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো দর্শক খেলাটি উপভোগ করতে মাঠে ভিড় জমান।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) ও বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আব্দুল খালেক। খেলার উদ্বোধক ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, শহীদ রাজীবের গর্বিত পিতা মোঃ রেজাউল করিম সরকার, রাজারহাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সাইদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টুর্নামেন্ট বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ফাইনাল খেলা ছিল অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। উভয় দলের খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠ মাতিয়ে তোলেন। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চলে, তবে শেষ পর্যন্ত একটি দল জয়ের মুখ দেখে। (প্রতিবেদন লেখার সময় নির্দিষ্ট স্কোর পাওয়া যায়নি।) দর্শকেরা প্রতিটি গোলে করতালি ও উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।
বক্তারা তাদের ভাষণে যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে যুব সমাজকে সুস্থ ও সৃজনশীল পথে পরিচালিত করা সম্ভব। শহীদ রাজীবের স্মৃতি ধারণ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।
প্রধান অতিথি মোঃ আব্দুল খালেক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহীদ রাজীব ছিলেন খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে উজ্জ্বল এক নাম। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন ভবিষ্যত প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। খেলার মাঠ সব অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়।”
উদ্বোধক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, “গ্রামীণ পর্যায়ে ফুটবল প্রতিভা লালন ও সামাজিক বন্ধন মজবুত করতে এই টুর্নামেন্ট এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”
প্রধান বক্তা সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ যুবকদের উদ্দেশে বলেন, “খেলার মাঠে নামলে স্বপ্ন দেখা যায়, আর সেই স্বপ্নই জাতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। শহীদ রাজীবের আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে রাজারহাট কামিল মাদ্রাসা মাঠে নানা বয়সী দর্শকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠের চারপাশে বিক্রি হয়েছিল নানা ধরনের খাবার ও ফলের দোকান; স্থানীয় ছোট-বড় সবাই ফুটবলের এই আনন্দে মেতে ওঠেন।
জেগে উঠো ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ রাজীবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এ ধরনের উদ্যোগকে অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন