কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিবাদীর নিকট ১ লক্ষ টাকা চাদা দাবীর অভিযোগটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হলে বাদী ও তার লোকজন বিবাদীর বাড়িতে গিয়ে হাত-পা ধরে ও চালাকি করে থানার অভিযোগ তুলে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাদা দাবীর অভিযোগকে আড়াল করে বাদীর পক্ষে আদালতে পুলিশের প্রসিকিউশন দাখিলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা।

জানা যায়, চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য সহকারীর নিকট ধারনকৃত মন্তব্য ও ক্ষোভের মূল অডিও রেকর্ডের একাংশ প্রকাশ হওয়ায় গত ১০/০৮/২৬ ইং, সোমবার কথিত সাংবাদিক এস,এম রাফি বাদী হয়ে চিলমারী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগ পত্রটি সঠিক ভাবে তদন্ত না করে বাদীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চিলমারী থানা পুলিশ এক লক্ষ টাকা চাদা দাবীর বিষয়টিকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আড়াল করেছেন। উক্ত অভিযোগ পত্রটি আদালতে প্রসিকিউশন হিসেবে দাখিল করায় জনমনে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে দাবীকৃত টাকার মধ্যে বিবাদীর কাছ থেকে গ্রহনকৃত ত্রিশ হাজার টাকার মূল অভিযোগটি হারিয়ে যাওয়ায় তদন্তের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে পুলিশের স্বচ্ছতার বিষয়টি নিয়ে এখন চারিদিকে ধোয়াশার সৃষ্টি করেছে।

গ্রমীণ অবকাঠামোর আওতায় ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের বরাদ্দকৃত চিলমারী উপজেলার ৩নং থানাহাট ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পের আওতায় নিজ নামে কোন প্রকল্প না থাকলেও মিথ্যা দূর্নীতির অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পিআইও অফিসের কার্য সহকারী মোঃ হুমায়ুন কবিরের নিকট হতে ১ লক্ষ টাকা চাদা দাবী করা হয়। দাবীকৃ টাকার মধ্যে ত্রিশ হাজার টাকা নগদ প্রদান করলেও পত্রিকায় খবর প্রকাশ হওয়ায় কার্যসহকারী হুমায়ুন এলাকার বিভিন্ন জনকে বিষয়টি অবহিত করেন। । প্রকাশিত খবর নিয়ে জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয় যে, আসলে কি বাকি টাকা না পাওয়ার কারনে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে, নাকি চাদা দাবীর বিষয়টি ফাস হওয়ায় থানায় বিবাদীর কন্ঠের অডিও রেকর্ডের একাংশ থানায় প্রমানক হিসেবে উপস্থাপন করে অভিযোগ করা হয়েছে? ধারকৃত অডিও রেকর্ডের শেষ অংশটিতে থাকা চাদা দাবীর মূল কথাগুলো প্রকাশ পেলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়বে। সে জন্য কথা গুলোর শেষ অংশ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ভূক্তভোগি চাকুরীর ভয়ে ও বাদীর হুমকিতে মুখ খুলতে পারছেন না। বিবাদী যেন কোন তদন্তকারী কর্মকর্তা বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন মহলের নিকট মুখ খুলতে না পারেন সে জন্য তাকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে মর্মে একাধিক সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন তদন্তকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সচেতন মহল প্রকৃত ঘটনাটি জানার জন্য পিআইও অফিসে গেলেও কার্যসহকারী হুমায়ুন কবিরকে না পেয়ে সন্দেহের জ্বাল দানা বেধেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সচেতন মহলের অনেকেই বলাবলি করছে যে, চাদা দাবীর ঘটনাটি মানুষের কর্ণগোচরে যেন না আসে সেটি ধামাচাপা দিতে কার্যসহকারী হুমায়ুন সূকৌশলে অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে।

চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার জানান, চাদা দাবীর অভিযোগটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগের জিডি করে আদালতে প্রসিকিউশন পাঠানো হয়েছে।