পবিত্র ঈদ-উল-আজহা (অথবা সংশ্লিষ্ট দুর্যোগকালীন সময়, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) সামনে রেখেও কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সরকারের বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিএফ) চাল বিতরণে চরম ধীরগতি ও বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো চাল না পেয়ে উলিপুরের হাজার হাজার হতদরিদ্র, দিনমজুর ও দুস্থ পরিবার চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নিয়ম অনুযায়ী উৎসব বা নির্ধারিত সময়ের আগেই এই চাল বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসনিক জটিলতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার কারণে চাল বিতরণ ব্যাহত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
ভোগান্তির চিত্র: চাতক পাখির মতো অপেক্ষা
উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কার্ডধারী শত শত মানুষ চালের আশায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিড় করছেন। সকাল থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও দিনশেষে চাল না পেয়ে অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।
উপজেলার ধামশ্রেণী, বজরা, হাতিয়া ও থেতরাই ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি এলাকার দুস্থ মানুষেরা জানান, ঘরে খাবার নেই, তার ওপর ঈদের দিন ঘনিয়ে আসছে। সরকার চাল বরাদ্দ দিলেও তারা তা সময়মতো পাচ্ছেন না।
হাতিয়া ইউনিয়নের এক কার্ডধারী বৃদ্ধা (৬০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থাকি লাইনোত খাড়া হয়া আছি। এ্যাকন কয় চাল আজকা দেওয়া শ্যাষ। হামার কপালত কি ঈদোত ভাত জুটপেই না?”
ইউনিয়ন ও পৌরসভার তথ্যচিত্র
উলিপুর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভিজিএফ কার্ডের সংখ্যা এবং বিতরণের বর্তমান পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
মোট ইউনিয়ন: ১৩টি (যেমন- দুর্গাপুর, ধামশ্রেণী, গুনাইগাছ, বজরা, হাতিয়া, থেতরাই, পান্ডুল ইত্যাদি)।
পৌরসভা: ১টি (উলিপুর পৌরসভা)।
ভোগান্তির শিকার: প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক কার্ডধারী পরিবার।
বিলম্বের প্রধান কারণ: গুদাম থেকে চাল ছাড়করণে দেরি, ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতি এবং মাস্টার রোল তৈরিতে ধীরগতি।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বক্তব্য
চাল বিতরণে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, খাদ্য গুদাম থেকে সময়মতো চাল বরাদ্দ না পাওয়া এবং পরিবহন সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে বিতরণ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে তারা দ্রুত চাল বিতরণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, “ভিজিএফের চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব সহ্য করা হবে না। গুদাম থেকে চাল খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব ইউনিয়নে এখনও বিতরণ শেষ হয়নি, সেখানে তদারকি বাড়িয়ে দ্রুত চাল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
দ্রুত সমাধানের দাবি
এলাকার সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হতদরিদ্র মানুষের এই কষ্ট লাঘবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি। উৎসবের আনন্দ যেন এই দরিদ্র মানুষগুলোর ঘরে বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় শতভাগ চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।