রবিবার ১৭ মে বিকেলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার আয়োজনে ফুলবাড়ী থানার ২য় তলা কনফারেন্স রুমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশ-জনতার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে “ওপেন হাউজ ডে” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী থানার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম মোরশেদ।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, সাবেক ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি শামসুজ্জামান হাসু,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আব্দুল মালেক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকারিয়া মিঞা,ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, ফুলবাড়ী বণিক সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সেরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন এলাকার সমস্যা, অভিযোগ ও জনদুর্ভোগের বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা, রাতের নিরাপত্তা, যানজট, ইভটিজিং এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা জনগণের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম মোরশেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা পেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হবে। তিনি সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যেকোনো সমস্যা দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, থানাকে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে থানায় এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।

শেষে বক্তারা বলেন, “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় নিরাপত্তা ও সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।