গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িগ্রামের রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর সাক্ষী হয়ে রইলো এক অভূতপূর্ব এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক দৃশ্যের। পদ্মার চর গ্রামের ছেলে মোঃ কবির হোসাইন (১৯) এবং বাওয়াইর গ্রাম এলাকার মোছাঃ জুঁই আক্তার (১৬) মেয়েটির মধ্যকার সেই নিবিড় বন্ধন আমাদের সমাজের প্রচলিত কাঠামোর মুখে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল।
ঘটনা সংক্ষেপে:
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একে অপরের সাথে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন—কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবার। গতকাল যখন বিষয়টি মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়, তখন এক পর্যায়ে দুই পরিবার তাদের আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক তখনই তৈরি হয় সেই মুহূর্ত, যা উপস্থিত শত শত মানুষের চোখে জল এনে দিয়েছে।
পরিবারের প্রবল চাপের মুখেও ছেলে-মেয়েটি একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠে। তাদের সেই আকুতি যেন চিৎকার করে বলছিল— “আমাদের আলাদা করবেন না, আমাদের বাঁচতে দিন।” একে অপরকে ছাড়তে নারাজ সেই দুটি প্রাণ যেন ভালোবাসার শেষ আশ্রয়টুকু খুঁজে নিচ্ছিল ওই আলিঙ্গনেই।
আমাদের সমাজ ও বাস্তবতা:
১. কাগজে-কলমে ভালোবাসা হয় না: আমরা হাজারো নিয়ম-নীতি দিয়ে সম্পর্ককে বাঁধতে চাই, কিন্তু মনের টান কি কখনো আইন বা সালিশ দিয়ে মেটানো সম্ভব?
২. পারিবারিক দেয়াল বনাম আবেগ: অভিভাবকদের সম্মান অবশ্যই শিরোধার্য, কিন্তু সন্তানের সুখ আর ইচ্ছার কি কোনো মূল্য নেই? জোর করে আলাদা করে দিলেই কি তাদের মন থেকে একে অপরকে মুছে ফেলা যাবে?
৩. নীরব সাক্ষী: উপস্থিত অনেকের চোখে ছিল জল, মনে ছিল প্রশ্ন। কিন্তু সমাজের অদৃশ্য শিকল এতটাই শক্ত যে, শেষ পর্যন্ত তাদের আলাদা হয়েই ফিরতে হলো।
ভালোবাসার এই যুদ্ধ হয়তো চলতেই থাকবে। রৌমারীর এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মানুষ আজও তার প্রিয়জনকে আগলে রাখার জন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। এই দুটি প্রাণের আকুতি যেন ব্যর্থ না হয়, সমাজ যেন আরেকটু সংবেদনশীল হতে শেখে।
বিচ্ছেদ কি সব সমস্যার সমাধান? নাকি একটু সহানুভূতি বদলে দিতে পারতো দুটি জীবন।