গ্রাম আদালত আইন-২০০৬-এর সুবিধা তুলে ধরে স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই আদালতের মাধ্যমে আইনজীবী ছাড়াই মাত্র ৯০ দিনের মধ্যে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দাবির ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব। রাজারহাটের ৩ নং ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা বিষয়ক তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ভিডিও শো-কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার, এটিএম রিয়াসাদ রনি গ্রাম আদালতকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আপনারা যারা সমাজে গণমান্য ব্যক্তিবর্গ আছেন এবং সচেতন, আপনারা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার পাবেন। এই আশায় আমি বলতে চাই, অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলে যাবেন গ্রাম আদালতে।”
অনুষ্ঠানের অপর বক্তা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বেপারী গ্রাম আদালতের আইনগত দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই আদালত অনধিক তিন লাখ টাকা মূল্যমানের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে ৯০ দিনের মধ্যে। বিশেষত, এখানে আইনজীবী নিয়োগের কোনো বিধান না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত সহজলভ্য। চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে এই আদালতের মাধ্যমে বিচার সমাধান করে থাকেন।”
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সফল করতে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর মতামত প্রদান করেন। ন্যায়বিচারকে সহজলভ্য করতে গ্রাম পর্যায়ে এই আদালতের প্রচার-প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘটে।