ঢাকার ধামরাইয়ে চলন্ত বাস থেকে সাভার সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেলফি পরিবহনের চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর মাথায় ১৫টি সেলাই পড়েছে।
বুধবার দুপুরে সাভার থেকে ধামরাইয়ে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী মো. ইমন সাভার সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার কেন্দ্র ধামরাই সরকারি কলেজে হওয়ায় ইমন সেলফি পরিবহনের একটি বাসে করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন। পথে বাসটি নির্ধারিত স্থানে না থামিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক ইমরান হোসেন রনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথায় ১৫টি সেলাই দেওয়া হয়। এছাড়া তার ডান পা ও পিঠেও আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত অবস্থাতেই তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন এবং মহাসড়কে চলাচলকারী সেলফি পরিবহনের ১১টি বাস আটক করে সাভার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেলফি পরিবহনের বাসগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে এবং চালক-সহকারীরা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছে।
শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় জড়িত চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট বাস জব্দ, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে আটক বাসগুলোর এক চালক আজগর হোসেন দাবি করেন, যে বাস থেকে শিক্ষার্থীকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার নম্বর কেউ বলতে পারছে না। যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সময় অন্য বাসগুলো আটক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।